আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভালো আইনজীবীর দরকার : প্রধান বিচারপতি

_sinha12প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রকৃতপক্ষে ভালো আইনজীবীর দরকার। ভালো আইনজীবী হতে হলে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দরকার।

সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আইনজীবীদের নেতা এডভোকেট শামসুল হক চৌধুরীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমেরিকা, জাপান ও ভারতে বেস্ট স্টুন্ডেন্টরা ল’তে অ্যাডমিশন নেয়। আমাদের এখানে প্রকৃত পক্ষে একেবারে যদিও রিসেন্টলি ডেভেলপ করেছে, ঢাকা, রাজশাহী, চিটাগাং ইউনিভার্সিটি ভালো ছেলে মেয়ে বের করছে। কিন্তু যে সব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো রয়েছে সেগুলোর মান একেবারে নি¤œ পর্যায়ে।

ল’কলেজ ইউনিভার্সিটির সিলেবাস বার কাউন্সিলকে প্রণয়নের আহবান জানিয়ে প্রথান বিচারপতি বলেন, ভালো আইনজীবী হতে হলে ভালো ল’ কলেজ দরকার। ভালো সিলেবাস ও ভালো শিক্ষক দরকার। ইন্ডিয়াতে কর্পোরেট ল’, ইনকাম ট্যাক্স ল’ আলাদা পড়ানো হয়। ডিজিটালাইজেশনের ব্যাপারে আলাদ আলাদা ব্র্যাঞ্চ ও ল ফার্ম হয়ে গেছে। আমাদের এখানে সেগুলো হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা নেয়ার আহবান জানান।

যেসব মামলা আছে এগুলোতে পড়ানো হয় না। আমি নিজে বিচার করি। কিন্তু আমি নিজে পড়িনি। আমাদের ইনক্যাম ট্যাক্স একটা বড় সাবজেক্ট। ভ্যাট। এগুলোর ম্যাক্সিমাম মামলা হচ্ছে। এগুলো কিন্তু পড়ানো হচ্ছে না। এগলো খেয়াল করবেন।

তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন রুল অব ল’ ইন্ডিপেন্ডেন্ট অব জুডিশিয়ারি কোনোটাই বাস্তবায়ন হবে না যদি স্ট্রং বার (আইনজীবী সমিতি) না থাকে। স্ট্রং বার না থাকলে ভালো বিচারকও হবে না। কারণ সুপ্রিম কোর্টের বেশির ভাগ বার থেকে বিচারক হয়। দেশের যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, তা হলে বিদেশের কোনো বিনিয়োগ এখানে আসবে না। বিনিয়োগকারীরা প্রথমে দেখবে এ দেশে আইনের শাসন কি অবস্থা, এই দেশে যে টাকা বিনিয়োগ করবো এটা তুলে নেয়ার নিশ্চয়তা আছে কিনা। এ দেশে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে কিনা, কারণ আমি যদি মামলাতে পড়ে যাই আমার টাকাটা আটকে যাবে কি না।

তিনি বলেন, আমি কিছু রিফর্মের উদ্যোগ নিয়েছি। আইনজীবীদের সহযোগিতা ছাড়া বিচার ব্যবস্থা উন্নত করা যাবে না।

শামসুল হক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক সুব্রত চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বিচার অঙ্গনে যে বিভক্তি তা দূর করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, আসুন বিভাজনকে আমরা সবাই মিলে কবর দেই। একদিন বিভাজনকে কবর দিতে সবাই ফাতেহা পড়ি। আমাদের বহুলীয় গণতান্ত্রিক সংবিধানকে মেনে নিতে হবে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন সম্ভব নয়, যদি আইন প্রয়োগ নিরপেক্ষভাবে করা না যায়।

একই অনুষ্ঠানে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে দলীয় বিভাজন দূর করব। আমরা সেজন্য কাজ করে যাচ্ছি।

 

Related posts

Leave a Comment